লটারি পদ্ধতিতেই ভিকারুননিসার ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে
দীপন নন্দী, ২৮ অক্টোবর (শীর্ষ নিউজ ডটকম): প্রথমবারের মতো লটারি পদ্ধতিতে প্রথম শ্রেণীর ভর্তি প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজে। ভর্তি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার জন্য এবারই প্রথম লটারি পদ্ধতি প্রবর্তন করতে যাচ্ছে স্কুল পরিচালনা কমিটি। অভিভাবকদের একাংশ এর বিরোধিতায় আন্দোলন করছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থার কথা পুনঃ পুনঃ বলে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, এ পদ্ধতির পক্ষেই বেশিরভাগ অভিভাবক। এক শ্রেণীর কোচিং সেন্টারের মালিক তাদের ভর্তি ব্যবসা বাঁচাতে কিছু অভিভাবককে ভুল তথ্য দিয়ে আন্দোলনে নামিয়েছে। কারণ, এ পদ্ধতি চালু হলে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অনেক কোচিং সেন্টারের ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। তবে আন্দোলনকারীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, এ পদ্ধতিতে অনেক অযোগ্য ছাত্রী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে, আর মেধাবীরা ছিটকে যাবে।স্কুল সূত্রে জানা যায়, নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য আবেদন ফরম বিতরণ শুরু করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে উন্মুক্তভাবে লটারি অনুষ্ঠিত হবে।এ প্রসঙ্গে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, যত আন্দোলনই হোক আমরা লটারি পদ্ধতিতেই এবারের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। কারণ, এ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আসবে বলে আমি মনে করি।ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম বলেন, প্রথম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক সময় বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সেজন্য এবার থেকে আমরা লটারি পদ্ধতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, প্রথম শ্রেণীর বাচ্চাদের যা শেখানো হবে তারা সেটাই শিখবে। এজন্য মেধার দিক থেকে তারা সবাই সমান বলে আমি মনে করি। এজন্য তাদের মেধা যাচাইয়ের কোনো প্রয়োজন নেই।এ প্রসঙ্গে ভিকারুননিসার লটারি পদ্ধতি বাতিল সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবদুর রহিম হাওলাদার বলেন, মেধার পরিচয় তখনই পাওয়া যায়, যখন প্রতিযোগিতা হয়। লটারি প্রক্রিয়ায় অযোগ্য ও স্বল্প মেধার ছাত্রীদের ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য আমরা এ পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।আফসানা আক্তার নামে এক অভিভাবক বলেন, আমি দুই বছর যাবত আমার বাচ্চাকে এ স্কুলে ভর্তির জন্য কোচিং করাচ্ছি। যদি তারা এ পদ্ধতিতেই ভর্তি করবে তাহলে আমাদের আগেই জানাতে পারত। আরেক অভিভাবক জাহিদ ইসলাম বলেন, এ পদ্ধতিতে অনেক অযোগ্য ছাত্রী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে, আর মেধাবীরা ছিটকে যাবে। এছাড়া এতে সরকার দলীয় প্রভাব পড়তে পারে।এ বিষয়ে স্কুলের একজন সিনিয়র শিক্ষক জানান, এসব মানববন্ধন-আন্দোলন সবই কোচিং সেন্টারগুলো করাচ্ছে। কারণ, লটারি পদ্ধতি হলে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে রাজধানীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়ায় গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেননসহ বর্তমান সরকারের অনেক মন্ত্রী ও নেতারা ভর্তি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার ফলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তারই ফলশ্রুতিতে স্কুল পরিচালনা কমিটি লটারি পদ্ধতি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। (শীর্ষ নিউজ ডটকম/ ডিএন/ জেডআর/ এনএম/ ০৩.০০ ঘ.)
0 Comments
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন