চাকরি হারালেন ঢাবির ১২৩ শিক্ষক, ৩০০ শিক্ষাছুটিতে
মনির উদ্দিন, ১০ ডিসেম্বর (শীর্ষ নিউজ ডটকম): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১হাজার ৭শ শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৩শ শিক্ষক উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য বিদেশ আছেন। ছুটি শেষে বারবার তাদের ঠিকানায় চিঠি পাঠালেও খোঁজ মিলছে না এ শিক্ষকদের। তাই বাধ্য হয়েই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব শিক্ষকের
 বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এ অভিযোগে এখন পর্যন্ত চাকরি হারিয়েছেন ১২৩ জন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে দেশের বাইরে অবস্থান করায় চাকরি হারিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩ শিক্ষক। নিয়মানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে গিয়ে আর ফিরছেন না তারা। সর্বশেষ গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় ৭ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশ থেকে এসে চাকরিতে যোগ দেয়া এক শিক্ষককে সতর্ক করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কমিটি।  অননুমোদিত ছুটি নিয়ে বিদেশে অবস্থানরত ১২৩ শিক্ষকের মধ্যে প্রথম দফায় ১০৯ জন, দ্বিতীয় দফায় ৭ জন এবং সর্বশেষ গত বুধবার ৭ শিক্ষক চাকরি হারান। এ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষাছুটি বিধির তিনটি প্রধান ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা শেষে শুধু দেশে ফিরে কাজে যোগদানই নয়, ভোগ করা ছুটির সমপরিমাণ সময়কাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব শিক্ষক ছুটি শেষে যোগদান না করার পাশাপাশি গৃহীত বেতন-ভাতাদিও ফেরৎ দেননি। যা শিক্ষাছুটি বিধির ৪(৭) ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ, ওই ধারা অনুযায়ী যদি কোন শিক্ষক শিক্ষাছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান না করেন, তাহলে ছুটিকালীন সময়ে গৃহীত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা সুদসহ এককালীন ফেরৎ দিতে হবে। সে হিসাবে বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ২ কোটি ৬ হাজার ৯৪৭ টাকা। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ৩১ শিক্ষক পরিশোধ করেছেন ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৫৬ টাকা। বেশ কয়েকজন শিক্ষক ইতিমধ্যে বিদেশ থেকে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। তবে, পাওনা হিসাবে আরও ১ কোটি ৪৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৯১ টাকা বাকি রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা শীর্ষ নিউজ ডটকমকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১২৩ শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা আদায় ও অবস্থান জানাতে চিঠি ইস্যু করে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় পরবর্তীতে বিভাগের ঠিকানায় অবস্থান জানানোর জন্য চিঠি ইস্যু করা হয়। তাতেও সাড়া না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১০৯ শিক্ষকের নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে টানিয়ে দেয়। এদের মধ্যে ৩১ শিক্ষক টাকা পরিশোধ করায় তাদের নাম ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে তা উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কয়েকজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ইতিমধ্যে তাদের টাকা পরিশোধ করেছেন। বাকিরাও তা পরিশোধ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।
শিক্ষাছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান না করায় চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা হলেন- ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এএফএম মফিজুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন; আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন; রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান ভূঁইয়া ও জাহিদ হাসান চৌধুরী; ফলিত রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মাহবুবুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম; ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আহাদ আলী, প্রভাষক মো. তৌহিদ হাসান, ড. মো. আবুল বাসার সরকার, আজিজ আহমেদ; পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রভাষক আব্দুর রহমান, নুজহাত হোসেন; প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ফজলে রাব্বি, প্রভাষক নাহিদ বানু, ড. মো. সাহাবুদ্দিন, ড. মো. শাহ আলম নূর-ই-কামাল, একেএম জালাল উদ্দিন ভূঞা, রহমতুল্লাহ, ফওজিয়া বেগম, মাসরুর রহমান, মো. গোলাম মাহী; অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. একেএম কামরুল হাসান, ড. আশফাক হোসেন, এসএএম আবদুল ওয়াদুদ, প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ, পারভীন আক্তার; ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দীপক কান্তি দত্ত, সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ ফয়সাল হাশীম, প্রভাষক আবু তাহের, মো. আনিছুজ্জামান, মো. দেলোয়ার হোসেন, রেজাউল হাসান মান্নান; মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল হোসেন চৌধুরী, মানফুসা শামস, শায়লা নেসার, এলিজা আহমেদ, প্রভাষক ড. শফিক আরা শিরিন; ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিমল কান্তি পাল, ড. এসএম নুরুল আমিন, মালিহা মঈন, প্রভাষক সাবিহা সাঈদ, প্রভাষক মাহবুব হাসান; ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক এএসএম রফিকুল আলম খন্দকার, সৈয়দ রাজী উদ্দিন হোসেন, মো. সালাউদ্দিন। অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইকবাল আহমেদ, সৈয়দ, ড. মোঃ মনসুরুল আলম খান, প্রভাষক মোহাম্মদ সেলিম, জাহানারা বেগম, প্রভাষক শাহীন ইসলাম, সৌমী মোস্তফা, ড. একেএম মাহবুব মোর্শেদ; আইন বিভাগের প্রভাষক রুবাইয়া রহমান শরীফ; বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. সালাউদ্দিন; গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম নুরুল হোসেন, সেলিম আহমেদ; ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনময় জাফর, ফায়জা সুলতানা, প্রভাষক সুধীর স্যামুয়েল চৌধুরী; গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল মো. ফজলে কবির, প্রভাষক মঞ্জুশ্রী বণিক; গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জামান; আইএসআরটি বিভাগের অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক ড. নাসিদ কামাল ওয়াহজেদ; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক সায়রা খান, মুনা হোসেন, শাহনাজ করিম; পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, মো. বাকী বিল্লাহ, প্রভাষক মো. জালাল উদ্দিন, প্রভাষক নুছরাত জাহান; হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনসুর রহমান, প্রভাষক রফিউদ্দিন আহমেদ; ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মেসকাত উদ্দিন আহমেদ; ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আজহার আলী চৌধুরী, রাশেদা হুদা, প্রভাষক মো. তাসলিম উদ্দিন শরীফ, আহমেদ নুর আলম, একে রফিকুল হাসান ভূঁইয়া, আদিনা নুসরা আনোয়ার; ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাজ্জাদ হায়দার, ড. শহীদুল ইসলাম খন্দকার, প্রভাষক কাজী মেহবুব রহমান, আদনান সিরাজ লস্কর, সেকান্দার চৌধুরী, জহিরুল হক, জামিল ইউসুফ খান, বজলুর রশিদ, একেএম আজাদ; রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন, রথীন্দ্রনাথ বোস, সুভাষ চন্দ্র বসু, আবুল খায়ের খান, ফাতেমা খাদিজা, কামরুজ্জামান, প্রভাষক ওমর ফারুক, দলিলুর রহমান, চঞ্চল কুমার বোস; সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সাঈদা জাকিয়া হোসেন, কাউসার কিবরিয়া; আইবিএর সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দা সোহেলী আলম, সহকারী অধ্যাপক রেজা মোঃ মোমেন, প্রভাষক মো. আতিকুল ইসলাম, ড. সামছুর রহমান; মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের ড. একে আনোয়ার হোসেন; পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবুল আলম সরোয়ার-ই-আলম, প্রভাষক ওয়াহিদুল ইসলাম খান, জিতেন্দ্র নাথ রায়, ফিরোজ আলী, আহসান জামিল সরফুদ্দিন; কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আশরাফুজ্জামান; সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. শমসের আলী।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ প্রতিনিধি/ এস/ ০০.০৪ ঘ.)